ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-বিজেপি-জামায়াত: প্রার্থী শতাধিক, বাড়ছে উত্তাপ

ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী মাঠে বিএনপি-বিজেপি-জামায়াত: প্রার্থী শতাধিক, বাড়ছে উত্তাপ
ছবি: দৈনিক ভোলা জার্নাল

ইসমাইল হোসেন আরিফ //

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন-২০২৭ইং কে কেন্দ্র করে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচন কমিশন এখনো তফসিল ঘোষণা না করলেও মাঠপর্যায়ে ইতিমধ্যে জমে উঠেছে আগাম প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ। কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার (সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য) পদপ্রার্থীরা নেমে পড়েছেন নির্বাচনী মাঠে।

ভোলা সদর উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮১৪ জন, যারা আগামী দিনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। ইউনিয়নগুলো হলো — রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, কাচিয়া, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়া, ভেদুরিয়া, উত্তর দিঘলদী এবং দক্ষিণ দিঘলদী।

রাজনৈতিক দিক থেকে ভোলা সদরে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য স্থানীয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ অবস্থান শক্ত করতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন দলের দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ও স্বতন্ত্র মিলে গড়ে ৪ থেকে ৬ জন করে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে ৪ থেকে ৭ জন করে মেম্বার পদপ্রার্থী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১৩টি ইউনিয়নে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং সাড়ে ৭ শতাধিক সাধারণ ও সংরক্ষিত মেম্বার পদপ্রার্থী দিন-রাত প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচারণায় ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে বাড়িয়েছেন অংশগ্রহণ। প্রার্থীরা নিজেদের ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ও ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানান দিচ্ছেন প্রার্থী হওয়ার বার্তা। একই সঙ্গে দলীয় হাই কমান্ড ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের সমর্থন পেতেও চালাচ্ছেন জোরালো লবিং ও দৌড়ঝাঁপ। বিভিন্ন দল ও বলয়ের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা বলছেন, এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোগত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রাখার অঙ্গীকার নিয়েই তারা মাঠে নেমেছেন। অন্যদিকে, সাধারণ ও সংরক্ষিত মেম্বার প্রার্থীরাও স্ব-স্ব ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে দিন-রাত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় ভোটারদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই সক্রিয় তৎপরতায় ভোলা সদরের গ্রামীণ জনপদে আগাম নির্বাচনী উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা আশা প্রকাশ করছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবেন তারা। তবে এবারে ভোলা সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগাম নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেষপর্যন্ত কারা দলীয় মনোনয়ন পাবেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং ভোটারদের সমর্থনে বিজয়ী হবেন, চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় সকলেই।

ভোলা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই আল-হাদী জানান, জনবল সংকট থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। তিনি বলেন, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, এলাকা পরিবর্তন ও ভোটার তালিকা সংশোধন সহ অন্যন্য কাজের জন্য সেবাগ্রহীতারা আসছেন।  প্রয়োজনীয় সেবা দিতে চেস্টা করে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, পাঁচ ধাপে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন-ইসি। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি। গত ১২ অক্টোবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের এক বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। পরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের পাঁচ ধাপের ভোটের তারিখগুলো জানান। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘোষিত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে্। ভোটগ্রহণ শুরু হবে ২১ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ২৭ মে। ভোটের সময়সূচি (৫টি ধাপ):-
* ১ম ধাপ: ২১ জানুয়ারি, ২০২৭
* ২ম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭
* ৩য় ধাপ: ২৯ এপ্রিল, ২০২৭
* ৪র্থ ধাপ: ১৩ মে, ২০২৭ইং।
* ৫ম ধাপ: ২৭ মে, ২০২৭।

আইনগত সতর্কতা: দৈনিক ভোলা জার্নাল-এ প্রকাশিত সংবাদের কোনো অংশ অনুমতি ছাড়া কপি, পুনর্মুদ্রণ বা যেকোনো ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচার কপিরাইট আইনের আওতায় আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

মন্তব্যসমূহ (Facebook Comments)

মন্তব্য নীতিমালা
ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আপনি সরাসরি মন্তব্য করতে পারেন। কোনো ধরনের আক্রমণাত্মক, আপত্তিকর বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রকাশ আইনত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।